বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম নভেম্বরে টানা তৃতীয় মাসের মতো কমেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ১ পয়েন্টে। এটি অক্টোবরে সংশোধিত মূল্যসূচকের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক কমার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েল, সূর্যমুখী তেল ও সরিষা তেলের মূল্যহ্রাস। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী ডিম, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ডে চিনির উৎপাদন বৃদ্ধি মূল্যসূচক কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া চাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আমদানি চাহিদা কমে যাওয়া সূচক হ্রাসে প্রভাব ফেলেছে।
জাতিসংঘের সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক অক্টোবরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। যদিও এ সময় ঊর্ধ্বমুখী ছিল সরিষা তেলের দাম। বাজার বিশ্লেষকরদের মতে, ব্রাজিলে বায়োডিজেল খাতে সয়াবিনের চাহিদা বৃদ্ধি এর প্রধান কারণ। নভেম্বরে মাংসের মূল্যসূচক কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ।
বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম দ্রুত কমছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে নিউজিল্যান্ডের বাড়তি দুধ উৎপাদন। ফন্টেরার গ্লোবাল ডেইরি আপডেট অনুযায়ী, গত অক্টোবরে সংগ্রহ হয়েছে ২০ কোটি ৯৫ লাখ কেজি মিল্ক সলিডস। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে নভেম্বরে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি কমেছে মাখন ও ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দাম।
এফএও আরো জানায়, অক্টোবরে চিনির মূল্যসূচক কমেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ঊর্ধ্বমুখী সরবরাহ এবং ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ডে শক্তিশালী উৎপাদনপ্রবণতা এ দরপতনের মূল কারণ।
চীনে সামনের দিনগুলোয় খাদ্যশস্যের আমদানি বাড়তে পারে। এছাড়া কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও আগামী বছর রাশিয়ায় ফসল আবাদ কমার পূর্বাভাস রয়েছে। এসব কারণে গত মাসে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও গমের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দামও বেড়েছে।
আলাদা এক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদন প্রথমবারের মতো ৩০০ কোটি ৩০ লাখ টন ছাড়াতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এ সময় চালসহ অন্যান্য দানাদার শস্য উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় বাড়বে। সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় চাল উৎপাদন।
বৈশ্বিক শস্য ব্যবহার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শস্যের মজুদ ৯২ কোটি ৫৫ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এছাড়া চলতি অর্থবছর বিশ্বব্যাপী শস্যের আমদানি-রফতানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫০ কোটি ৬ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।